উৎসবের মৌসুমে তেলের হাহাকার, তিন পার্বত্য জেলায় হোটেল বুকিং কমেছে ৮০%

জ্বালানি সংকট পর্যটন শিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বিজু, সাংগ্রাইং ও বিষু-তিন পার্বত্য জেলার সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রতিবছর এই সময়ে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পর্যটক ভিড়ের জন্য মুখরিত থাকে। কিন্তু এবার উৎসবের আগেই পাহাড় কন্যার পর্যটনশিল্পে ধাক্কা লেগেছে তেলের সংকটের কারণে।
তিন পার্বত্য জেলায় পেট্রোল পাম্প থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে তেল নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চালকরা খালি হাতে ফিরছেন। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হোটেল, রিসোর্ট, জিপ-মাইক্রো চালক, বোট চালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর।
হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. এমরান জানান, বিজু-সাংগ্রাইং ও আসন্ন সরকারি ছুটির জন্য যে আগাম বুকিং আসার কথা ছিল, তার ৮০% বাতিল হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সংকট না কাটলে পুরো পর্যটন মৌসুমে মন্দার প্রভাব পড়বে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
বান্দরবানের পর্যটকবাহী গাড়িচালক ওসমান বলেন, বান্দরবানের পর্যটন নির্ভর সড়ক ও নদীপথে দূরের কেন্দ্রগুলোতে যাওয়া এখন প্রায় বন্ধ। নীলগিরি, বগালেক, কেওক্রাডংসহ জনপ্রিয় স্পটে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জিপ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জহীর উদ্দীন মাসুম জানান, জেলায় তিন হাজারেরও বেশি চালক ও শ্রমিক পর্যটনভিত্তিক পরিবহনে জীবিকা নির্বাহ করেন। দূরের রুটে যেতে ২০–২৫ লিটার তেল লাগলেও লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মেলে মাত্র ১০ লিটার, ফলে আয় কমছে আশঙ্কাজনকভাবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছরের সমপরিমাণ ডিজেলই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি মজুতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নেমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এস এম হাসান বলেন, “অকটেন পেতে কিছুটা সমস্যা হলেও ডিজেল পেতে সমস্যা হয়নি। অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি।”






