পাহাড়-সমতলে বৈষম্য নয়: মন্ত্রীর বার্তা

সমান উন্নয়নের বার্তা মন্ত্রীর, উৎসবে সম্প্রীতির আহ্বান।

নিজস্ব প্রতিনিধি: পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, সমতল ও পাহাড়ের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার সমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু কিংবা বিষু—নামের ভিন্নতা থাকলেও এসব উৎসবের মূল সুর একটাই, আর তা হলো সম্প্রীতি ও সহাবস্থান। প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে তাদের নিজস্ব পরিচয়ে সম্মান জানানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর এসব উৎসব মিলেমিশে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তুলেছে, যা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এখনই উপযুক্ত সময়।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুপ কুমার চাকমা, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, পণ্য প্রদর্শনী ও নাট্য মঞ্চায়নসহ নানা কর্মসূচি।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল মূল উৎসব ঘরোয়াভাবে পালিত হবে এবং মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলির মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্যে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন মন্ত্রী।