ইরাক বিশ্বকাপে: ৪০ বছর পর ফিরল মেসোপটেমিয়ার সিংহরা

সংকটকে হার মানিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ইরাক।
বিশ্ব ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মাঝেও ইরাক জাতীয় ফুটবল দল নিশ্চিত করেছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। প্রায় চার দশক পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে ফিরছে দেশটি, যা ইরাকি জনগণের জন্য বিরাট আনন্দের খবর।
ইরাকি ফুটবল ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ইরাক। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল তারা।
প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দলের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিমান চলাচল বিঘ্ন, ভিসা জটিলতা এবং খেলোয়াড়দের বিচ্ছিন্ন অবস্থান—সবকিছু সামলে দলটি বিশেষ ব্যবস্থায় মেক্সিকোর মন্টেরিতে পৌঁছে ম্যাচ খেলে জয় ছিনিয়ে আনে।
প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে ‘মেসোপটেমিয়ার সিংহ’রা এশিয়ান বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্লে-অফে ওঠে। এরপর আন্তঃমহাদেশীয় লড়াইয়ে বলিভিয়াকে হারিয়ে নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের টিকিট।
ফিফার প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ইরাককে গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।
আশা জাগানো এক জয়
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইরাকের জন্য এই অর্জন কেবল ক্রীড়া সাফল্য নয়—এটি জাতীয় পুনরুজ্জীবনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন শহরে উদযাপন শুরু হয়েছে। ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই জয় দেশের কোটি মানুষের জন্য এক অনন্য প্রেরণা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের এই সাফল্য প্রমাণ করে— কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ঐক্য, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় মানসিকতা থাকলে বড় অর্জন সম্ভব।






