অগ্নিপরীক্ষায় বিএনপি: সংসদে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি

টুইট ডেস্ক: দেড় দশকের একচ্ছত্র আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি।

আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশন ঘিরে রাজনীতি অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। কারণ এবারের সংসদের চিত্র অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন।

সরকার গঠনের মাধ্যমে বিএনপি স্বস্তির জায়গায় থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কার, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দলটি। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো জামায়াত ও এনসিপি জোট সংসদের বিরোধী দলে থাকায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিএনপি।

রাজপথ থেকে সংসদে বিএনপি

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল ও সরকারকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনিক সংস্কার থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলায় রাখা সবকিছুতেই তার সরাসরি নজরদারি রয়েছে।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জনগণের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে এমপি ও মন্ত্রীদের সংসদীয় কার্যক্রম বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

বন্ধু থেকে সংসদে প্রতিপক্ষ

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াত রাজপথের আন্দোলনে একসঙ্গে থাকলেও এবার সংসদে দুই দল মুখোমুখি অবস্থানে থাকবে। কারণ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়।

জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, সংসদে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ গঠনমূলক সমালোচনার মুখে তোলা হবে। এমনকি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দলটির সূত্র জানিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতকে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়েছে বিএনপি। যদিও শেষ পর্যন্ত জামায়াত এই পদ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কার ইস্যু

বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল হিসেবে আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন।

এই সনদের কিছু ধারা নিয়ে আদালতে রিট বিচারাধীন থাকায় সেগুলো আইনি কাঠামোতে আনার বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বেশ কিছু অধ্যাদেশ সংসদে পাস করিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্পিকার নির্বাচন ও নতুন এমপিদের চ্যালেঞ্জ

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অধিবেশনের শুরুতে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

স্পিকার পদে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। তবে আলোচনায় রয়েছে ড. আবদুল মঈন খান, ড. ওসমান ফারুক, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও জয়নুল আবদিন ফারুকের মতো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম।

অন্যদিকে এবারের সংসদে বিএনপির অনেক সদস্যই নতুন। সংসদীয় আচরণবিধি, বিল প্রণয়ন ও বাজেট বিশ্লেষণে দক্ষ করতে ইতোমধ্যে দলীয় এমপিদের জন্য গুলশানে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

‘প্রাণবন্ত সংসদ’ গড়ার প্রত্যাশা

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এবারের সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার। তার ভাষায়, “তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংসদকে ডিজিটাল ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের তারুণ্য ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর সংসদ উপহার দিতে চাই।”