বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ৩০ রোজা হওয়ার সম্ভাবনা

ঈদের চাঁদ নিয়ে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব।  ৩০ রমজানে খালি চোখে দেখা কঠিন, বাংলাদেশে ২০ তারিখ সন্ধ্যায় বড় চাঁদ দেখা যেতে পারে।

টুইট ডেস্ক: রমজানের শেষদিকে ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে আবহাওয়া ও পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর সৌদি আরবে ৩০ রমজানের সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদ দেখা কঠিন হতে পারে।

পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৯ তারিখে সৌদি আকাশে চাঁদের দৃশ্যমানতা প্রায় ০.২ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এত কম দৃশ্যমানতায় খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হলেও শক্তিশালী দূরবীন বা উন্নত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করলে দেখা যেতে পারে।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সহায়তায় তারা ওই দিনই চাঁদের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। তবে যদি রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়, তাহলে ঈদ পালনের জন্য নতুন চাঁদ দেখা বাধ্যতামূলক থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের মানুষ যদি খালি চোখে ঈদের চাঁদ দেখতে চান, তাহলে তাদের ২০ তারিখের সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সে সময় আকাশে চাঁদ তুলনামূলক বড় ও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

ব্যতিক্রমী ঘটনা: রমজানের শুরুতেই দ্রুত চাঁদ দেখা

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এ বছরের একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। রমজানের শুরুতে সৌদি আরব নতুন চাঁদ সৃষ্টির মাত্র প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা দেখতে পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এত দ্রুত নতুন চাঁদ দেখা সাধারণত খুবই বিরল ঘটনা। এই কারণেই রমজানের শেষদিকে চাঁদের দৃশ্যমানতা হিসাবের মধ্যে কিছু পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের আকাশে সম্ভাবনা

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বাংলাদেশের আকাশে ২০ তারিখ সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ তুলনামূলক বড় আকারে খালি চোখে দেখা যেতে পারে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে।

তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে চাঁদ দেখা না গেলেও পরের দিন ঈদ উদযাপন করা যায়।

কিছু দেশে ২৯ রোজায় চাঁদ দেখা সম্ভব

পৃথিবীর কিছু দেশে রোজা একদিন পরে শুরু হয়েছিল। সেসব স্থানে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ২৯ রমজানেই চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে বলা হচ্ছে, New Zealand–এর আকাশে ২৯ রমজানে চাঁদের দৃশ্যমানতা প্রায় ১.৫ শতাংশ থাকতে পারে। পরিষ্কার আকাশে খালি চোখে তা দেখা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে এ বছর বিশ্বের অধিকাংশ দেশে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে আঞ্চলিক পার্থক্যের কারণে কিছু দেশে একদিন আগে ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।