ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত: ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
টুইট প্রতিবেদন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) রাজধানী তেহরান-এ তাঁর দপ্তর কম্পাউন্ডে যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়।
রাষ্ট্রীয় সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তেহরানের বেইত রাহবারি কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় তিনি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিস্ফোরণে ভবনের একটি অংশ ধ্বংস হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, “তিনি দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হয়েছেন।” একইসঙ্গে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রথমে খবরটি প্রচার করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি ও সিএনএন ইরানি রাষ্ট্রীয় ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম IRIB জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর সঙ্গে হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও দপ্তরের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা Tasnim News Agency ও Fars News Agency প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেইত রাহবারি কম্পাউন্ডে (তেহরান) বিস্ফোরণের সময় কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দপ্তরের উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন; তাঁদের মধ্যেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে “নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একাধিক সদস্যের শাহাদাত” স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট পরিচয় দেয়নি। সরকারি সূত্র বলছে, ডিএনএ শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি ও সিএনএন ইরানি রাষ্ট্রীয় ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে পরিবার-সদস্য নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পৃথকভাবে নাম যাচাই করতে পারেনি।
সূত্র: আইআরআইবি, তাসনিম, ফার্স, রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন







