৩ দিন পর আলু ক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শ্রমজীবীর লাশ

তারাগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য।

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতি‌নি‌ধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মনজুরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা পীরের মাজারসংলগ্ন একটি আলু ক্ষেতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মাটির একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে নরম দেখতে পান এলাকাবাসী। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা দ্রুত তারাগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলু ক্ষেতের ওই স্থান খনন করে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এর আগের দিন বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একই এলাকার পাশের একটি তামাক ক্ষেতে রক্তের দাগ ও একজোড়া স্যান্ডেল দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ মনজুরুল ইসলামের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্যান্ডেলগুলো তার বলে শনাক্ত করেন। তবে সেদিন ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পরও মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হন মনজুরুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মনজুরুল ইসলামের বলে নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কিনা বা এর পেছনে কারা জড়িত—তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।