নওগাঁয় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা মোহনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি

মান্দায় অধিক মুনাফার ফাঁদে সর্বশান্ত শতাধিক গ্রাহক, লাপাত্তা সমবায় সমিতির কর্তৃপক্ষ!
নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা: নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের পর গা ঢাকা দিয়েছে ‘মোহনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি সমবায় সংস্থার সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় আমানতের টাকা ফেরত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শতাধিক গ্রাহক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কয়েকজন যুবক ২০১৭ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করেন। উদ্যোক্তারা হলেন সুফল কুমার মণ্ডল, সজল কুমার মণ্ডল, অমিয় চন্দ্র মণ্ডল ও সুজিত কুমার মণ্ডল। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয় ‘মোহনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’।
শুরুর দিকে নিয়মিত মুনাফা পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করলেও পরবর্তীতে অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করা হয়। ২০২০ সালে নতুন করে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। তবে গত দুই বছর ধরে গ্রাহকদের কোনো মুনাফা বা মূলধন ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক পরিমল চন্দ্র মণ্ডল জানান, তার দেড় লাখ টাকা আমানত রয়েছে। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি পারিবারিক সংকটে পড়েছেন। তিনি বলেন, “মেয়ের বিয়ের জন্য টাকার প্রয়োজন, কিন্তু সংস্থার কেউ এখন ফোনও ধরছে না।”
রিপন কুমার মণ্ডল নামের আরেক গ্রাহক বলেন, তার জমা রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। “দুই বছর ধরে আজ দেব, কাল দেব বলে ঘুরিয়েছে। এখন কার্যালয় বন্ধ, কেউ নেই,”—বলেন তিনি। তার দাবি, একই গ্রামের বৈদ্যনাথ মণ্ডলের ১২ লাখ টাকাসহ ১৭টি পরিবারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী অমিয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “সংস্থার কাছে আমার ৯ লাখ টাকা পাওনা। অধিক মুনাফার লোভে পড়ে এখন সর্বস্বান্ত। দ্রুত তদন্ত করে আমানত উদ্ধারের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্ত সুজিত কুমার মণ্ডলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, সংস্থাটি বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে। অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব পাওয়ায় গত বছরের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।






