সাফ নিয়ে শ্রীলঙ্কার কোচের বিস্ফোরক অভিযোগ

রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাগতিকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ শ্রীলঙ্কার কোচের, ভিএআর নিয়েও ক্ষোভ।

টুইট প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ও ভারতকে ফাইনালে দেখতে চায় আয়োজক সংস্থা সাফ, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন শ্রীলঙ্কার কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি। রোববার রাতে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে রেফারিংয়ের মান, স্বাগতিক দলের সুবিধা এবং ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ভুটানের বিপক্ষে ভালো ফুটবল খেলেও জয় না পাওয়ায় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুতাইরি। তাঁর অভিযোগ, শ্রীলঙ্কা অন্তত একটি নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দলের ফরোয়ার্ডকে ছয়বার ফাউল করা হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং ভুটানের পক্ষে বারবার বাঁশি বাজানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাফ চায় বাংলাদেশ ও ভারত ফাইনাল খেলুক। অন্য দেশগুলো যেন শুধু প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্যই অংশ নেয়।

বাংলাদেশের ম্যাচ না থাকলেও কেন তাদের প্রসঙ্গ টানছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রীলঙ্কার এই কোচ বলেন, সাফ প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক দল বরাবরই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২৩, ২০২১ সালের আসরসহ আগের প্রতিযোগিতাগুলোর ঘটনাও পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এবার রেফারিংয়ের মান উন্নত করতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশ থেকে রেফারি আনা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ভিএআর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকরা। তবে সব ম্যাচে এই প্রযুক্তি না রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুতাইরি।

তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব খেলায় ভিএআর ব্যবহার সম্ভব না হলে প্রতিযোগিতা আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর মালদ্বীপের কোচ স্টিভেনও ভিএআর না থাকায় কয়েকটি গোল ও আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের ম্যাচ ড্র হওয়ায় বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে। এখন দুই গোলের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে গোল ব্যবধানে ভুটানও শেষ চারে জায়গা করে নেবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচকে সাফের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুতাইরি। তাঁর প্রত্যাশা, দুই দলই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র করলেও শ্রীলঙ্কার র‌্যাঙ্কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি। সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ড্র থাকায় এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নির্ধারণেও র‌্যাঙ্কিংয়ের ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শ্রীলঙ্কার কোচ।

সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং ও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাফ ফুটবলে। এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ম্যাচ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।