৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক-রেল অবরোধ প্রত্যাহার

ছয় গ্রাম পুনর্বহালের দাবি, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

টুইট ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় বাসুদেব ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এ কর্মসূচির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে অন্তত সাতটি আন্তঃনগর ট্রেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

অবরোধের একপর্যায়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রোমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর ওইসব পথে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গত ৪ জুন এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নবাসী।

এদিকে সম্প্রতি বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে নতুন বরিশল ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দাবি পূরণে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করলেও দাবি আদায় না হলে পুনরায় আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এলাকাবাসী।