আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন শক্তি অর্জনের পথে বাংলাদেশ, আসছে ২০ জে-১০সিই

ব্যয় ২.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৭ সালে সরবরাহ শুরুর সম্ভাবনা; ২০ শতাংশ অগ্রিম দিয়ে ছয় কিস্তিতে পরিশোধ

টুইট প্রতিবেদক: চীন থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে চূড়ান্ত নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ জন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ১৩১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতির পর অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থায়ন কাঠামো অনুমোদন করেছে এবং এ ক্রয়ের বিপরীতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া ও নর্থইস্ট নিউজ ৭ নভেম্বর ২০২৬ পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। একই বিষয়ে defence.newsd.in এবং ভারতের হিন্দি সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমসও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে যুদ্ধবিমান কেনার ব্যয়, অর্থ পরিশোধের শর্ত, চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং সম্ভাব্য সরবরাহের সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে।

চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে অনুমোদনের বিষয়টি জানানো

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ এবং এর অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই বৈঠকে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিমান কেনার অর্থায়ন কাঠামো অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি প্রদানের সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রস্তাবটি নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদনের পর্যায় অতিক্রম করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

২.১৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আর্থিক কাঠামো

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (CATIC)-এর সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (G2G) ব্যবস্থায় এ ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০টি যুদ্ধবিমানের মূল মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে অর্থায়নের সুদ বাবদ যুক্ত হবে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার। ফলে সুদসহ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২ দশমিক ১৩১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থ পরিশোধের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০টি যুদ্ধবিমান কেনায় মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ দশমিক ১৩১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল ক্রয়মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ ব্যয় প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার।

চুক্তি অনুযায়ী, মূল ক্রয়মূল্যের ২০ শতাংশ বা প্রায় ৩৯১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। এরপর দুই বছরের অবকাশকাল শেষে বাকি অর্থ ছয়টি অসম বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব রয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, শুরুতে প্রায় ৩৯১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর বাকি অর্থ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এ ব্যবস্থা যুদ্ধবিমান কেনার বিপুল ব্যয় একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে কয়েক বছরে ভাগ করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে এ ধরনের সরাসরি অর্থ পরিশোধের দায়ের ক্ষেত্রে সাধারণত রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির প্রয়োজন না হলেও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অনুরোধ এবং ক্রয়টির সংবেদনশীলতার কারণে ব্যতিক্রমীভাবে গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় আলোচনার আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করার শর্তও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৭ সাল থেকে সরবরাহের সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ক্রয়প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও চুক্তি সম্পন্ন হলে ২০২৭ সাল থেকে বাংলাদেশে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে প্রথম দফায় কতটি বিমান আসবে এবং পুরো ২০টি বিমান সরবরাহে কত সময় লাগবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিমান কেনার প্যাকেজে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র, পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে নর্থইস্ট নিউজ।

চীনের সঙ্গে এ ধরনের সমন্বিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধবিমান পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তৈরি জে-১০সিই একটি এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট, এক আসনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি চীনের নিজস্ব বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে একে সাধারণত ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিমানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার। এ রাডারের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ইলেকট্রনিক জ্যামিং মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে।

এ ছাড়া এতে চীনের পিএল-১৫ সিরিজের দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে পিএল-১৫ই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়।

আধুনিক তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানটি নেটওয়ার্কভিত্তিক সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারে।

প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকৃত সক্ষমতা নির্ভর করবে প্রশিক্ষিত পাইলট, অস্ত্রের মজুত, স্থলভিত্তিক রাডার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার ওপর।

ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অংশ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন কর্মসূচি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এ যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমান বাহিনীর পুরোনো এফ-৭ যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান যুক্ত করা এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান ও পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের কথিত ব্যবহারের পর এ ধরনের যুদ্ধবিমান আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে আলোচনায় আসে। পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের ব্যবহৃত জে-১০সি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ওই সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

বাংলাদেশও ওই সংঘাতের সামরিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জে-১০সিই কেনার বিষয়ে আগ্রহী হয় বলে পূর্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গত ২৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে একটি কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।

ভারত-চীন সমীকরণে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয়

চীনের কাছ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। যুদ্ধবিমান কেনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে।

অন্যদিকে, ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয় আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

তবে ভারত বাংলাদেশকে চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান না কেনার অনুরোধ জানিয়েছিল—এমন দাবি বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এলেও এ বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জে-১০সিই যুক্ত হলে বঙ্গোপসাগর ও ভারতের পূর্বাঞ্চলসংলগ্ন আকাশসীমায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে ২০টি যুদ্ধবিমান যুক্ত হলেই আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন ঘটবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বিমানগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্রব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।

পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী হতে পারে বাংলাদেশ

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান বর্তমানে চীনের নিজস্ব বিমান বাহিনীর পাশাপাশি পাকিস্তান পরিচালনা করছে। রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই-এর নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে জে-১০সিই-এর দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী দেশ। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামরিক সরঞ্জামের বাজার ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

তবে শুধু যুদ্ধবিমান কেনাই আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত অস্ত্রের মজুত, দক্ষ পাইলট ও কারিগরি জনবল এবং আধুনিক রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয়।

সব মিলিয়ে, ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদনের খবর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর, অর্থ পরিশোধ, সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং যুদ্ধবিমানগুলো বিমান বাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।