ইথিওপিয়া-সুদানের পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার: আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

আসোসা ও গেদারেফে দুই দেশের কনস্যুলেট বন্ধ; সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার পাল্টাপাল্টি অভিযোগে হর্ন অব আফ্রিকায় বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা।
বিশ্ব ডেস্ক: সীমান্ত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ইথিওপিয়া ও সুদান পরস্পরের সীমান্তবর্তী কনস্যুলেট বন্ধ করে কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এতে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৪ ও ৫ নভেম্বরের মধ্যে নেওয়া এসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইথিওপিয়া পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর আসোসায় (Assosa) সুদানের কনস্যুলেট বন্ধ করে ছয়জন সুদানি কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরে সুদানও পূর্বাঞ্চলীয় গেদারেফ (Gedaref) শহরে ইথিওপিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ করে সেখানকার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় পক্ষই কূটনীতিকদের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
সুদানের অভিযোগ, ইথিওপিয়া দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সহায়তা করছে। এমনকি ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে সুদানের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে খার্তুম। এ বিষয়ে সুদান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইথিওপিয়ার অভিযোগ, সুদান দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রায় অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইথিওপিয়ার তিগ্রায় অঞ্চলেও দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে সীমান্তপারের পারস্পরিক অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সুদান ও ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে হর্ন অব আফ্রিকায় বৃহত্তর অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস বন্ধের কোনো সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আলজাজিরা






