পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে রপ্তানি ঝুঁকির শঙ্কা, আজ মজুরি বোর্ডের বৈঠক

মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ, সাভার-গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ; উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
টুইট ডেস্ক: তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ পোশাকশিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে নবগঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকদের ওপর ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
সাভার-গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ
বুধবার ঢাকার উপকণ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ পোশাকশিল্পাঞ্চল সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
অব্যাহত উত্তেজনার কারণে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় কারখানার মালিকেরা উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মজুরিতে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ কারণে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকেরা।
বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে বড় উদ্বেগ
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
বিশ্বখ্যাত এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্সের জারা এবং ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ, রপ্তানি আয় এবং দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে নজর
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা—সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে কী আলোচনা হয় এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।






