ফানুস উড়িয়ে রাজার মাঠে ৫-এ-৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন

বান্দরবানে প্রথমবারের মতো এক দলে ৫ খেলোয়াড় নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, অংশ নিচ্ছে ৫২টি দল
বান্দরবান প্রতিনিধি:বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজার মাঠে শতাধিক ফানুস উড়িয়ে জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৫-এ-৫ ফুটবল ফরম্যাট। অর্থাৎ প্রতি দলে পাঁচজন করে খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। বান্দরবানে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন এবারই প্রথম। ছোট মাঠে দ্রুতগতির খেলা, দুর্দান্ত কৌশল ও একের পর এক গোল দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি ও ট্রিপল এ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আজহারুল ইসলাম বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর আহ্বায়ক মো. মোরশেদ আলম।
টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে রাজার মাঠ যুব ও ক্রীড়া সংঘ, বান্দরবান। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ট্রিপল এ এন্টারপ্রাইজ।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ৩ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে ঐতিহাসিক রাজার মাঠে টুর্নামেন্টের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ৫২টি দল অংশ নিচ্ছে বলে আয়োজকপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—এএফসি বান্দরবান বাজার সাঙ্গু ভয়েস, টংক্যাং এফসি, সোনাই সেংকুপাড়া একাদশ, লাংনিয়রং একাদশ, মর্নিং টিম ও ইউকে সিটিসহ অন্যান্য দল।
উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে এএফসি বান্দরবান বাজার সাঙ্গু ভয়েস ২-১ গোলে টংক্যাং এফসিকে পরাজিত করে। দ্বিতীয় ম্যাচে সোনাই সেংকুপাড়া একাদশের হলুদ দল ৪-১ গোলে লাংনিয়রং একাদশের লাল দলকে হারিয়ে জয় তুলে নেয়।
এ আয়োজন সম্পর্কে ‘গেদু চাচার খোলা চিঠি’র পক্ষ থেকে গেদু চাচা বলেন, “পাঁচজনের ফুটবল ফরম্যাট বান্দরবানের খেলাধুলার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত। এর আগে এমন ক্ষুদ্র দলে দ্রুতগতি, কৌশল ও আনন্দের খেলা কখনো হয়নি। তরুণেরা এখন আরও বেশি অংশ নিতে পারবে, ছোট মাঠে সবার খেলার সুযোগ হবে। এই উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে খেলাধুলায় অনুপ্রাণিত করবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।”
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজন প্রতিবছর চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে এটি একটি স্মরণীয় ঐতিহ্যে পরিণত হবে।






