হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার আশঙ্কা; পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনসম্মত ও আনুপাতিক বল প্রয়োগের কথা জানালেন উপদেষ্টা

টুইট ডেস্ক : শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এমন চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাধারণত পাঁচ বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনা করা হয়। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয় বিবেচনায় সরকার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু মানুষের সহিংস আচরণ প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির কাছে থাকা অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরকেন্দ্রিক নয়। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করে। তিনি বলেন, সরকার এসব চেষ্টা প্রতিহত করবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে এবং তার আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হলে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে, তবে তা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক হতে হবে। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের ভয় ও ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানো সম্ভব হবে এবং আন্দোলন দ্রুত শেষ হবে। শ্রমিকেরা আন্দোলন থেকে সরে এলে তা ঘিরে অন্য কারও পক্ষে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।