বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি, তবু থামছে না সোনা চোরাচালান

সিসিটিভি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা ও স্ক্যানারেও ঠেকানো যাচ্ছে না চোরাচালান; ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার ৬০ কেজির বেশি সোনা
টুইট ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও থামছে না অবৈধ সোনার চালান। রানওয়ে থেকে হ্যাঙ্গার, যাত্রীদের চলাচলের পথ থেকে শুল্ক বিভাগের গ্রিন চ্যানেল—বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রয়েছে সিসিটিভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরা। তল্লাশিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক স্ক্যানার ও সোনা শনাক্তকরণ যন্ত্র।
এরপরও প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে দেশে সোনা নিয়ে আসছেন চোরাকারবারিরা। যাত্রীদের পাশাপাশি বিমানবন্দরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মীকেও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর দুই চীনা যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কেজি পেস্ট আকারের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রতিরোধ দল। যাত্রীদের শরীরে লুকানো এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ কোটি টাকা।
এর আগে ৪ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ৯ দশমিক ৩৪ কেজি ওজনের এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ কেজিতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৬০ কেজির বেশি সোনা। গত ৭ অক্টোবর ২১ কেজি সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস প্রতিরোধ দলের রাজস্ব কর্মকর্তা ফারুক আব্দুল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে পুরো চক্র শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সংস্থার অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা কাজ করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ও আগে চোরাচালানের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুখ শনাক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
তবে নজরদারি এড়াতে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে। কখনো ফলের ক্যারেট, লাগেজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কিংবা ল্যাপটপের ব্যাটারিতে সোনা লুকানো হচ্ছে। আবার কখনো জুতা, শার্টের কলার ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেস্ট আকারে সোনা বহন করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বাহক হিসেবে এমন ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যাঁরা মূল কারবারিদের পরিচয় জানেন না। নির্দিষ্ট সংকেতের মাধ্যমে বিমানবন্দরের বাইরে সোনা হস্তান্তর করেন তাঁরা। ফলে বাহক গ্রেপ্তার হলেও প্রকৃত মালিক ও পুরো চক্রের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ২ জুলাই একটি উড়োজাহাজের পণ্য রাখার কক্ষ থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। ১৯ জুলাই ফলের চালানের আড়ালে পাওয়া যায় ১৬ কেজি সোনা। এর আগে ২৮ মার্চ একটি উড়োজাহাজের পণ্য রাখার কক্ষের শৌচাগারের আড়াল থেকে উদ্ধার করা হয় ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম সোনা।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার রইছ উদ্দীন বলেন, বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।






