সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন আইন অনুমোদন

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ক্রয় আইনে পরিবর্তন; সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন।
টুইট প্রতিবেদক: সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম সম্প্রসারণে নতুন আইন এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে হংকংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালের সরকারি ক্রয় আইন এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। এবার সেই অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে সংশোধিত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন আইনে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করতে হবে। এ কারণে সংশোধিত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হয়। জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়াটি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এদিকে, বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জারি করা ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-কে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে হংকংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চুক্তির খসড়াও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
সরকারের এসব উদ্যোগ সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধ দমনে আইনি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশা করা হচ্ছে।






