মাতৃত্বকালীন ভাতায় ঘুসের অভিযোগ, দুদকের অভিযান

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভাতার কার্ড দিতে অর্থ দাবির অভিযোগ; জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগেও তদন্ত।
টুইট প্রতিবেদক: মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুস দাবি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই দিনে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভায় রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগেও অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।
রোববার (১ নভেম্বর) দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের উদ্যোগে পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়। সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদক জানায়, কুমিল্লার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল নাঙ্গলকোট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালায়। মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছে ঘুস দাবি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে দুদকের দল মাতৃত্বকালীন ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদনসংক্রান্ত নথিপত্র দেখতে চায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। নথি প্রস্তুত করে জমা দিতে তাঁরা দুই কার্যদিবস সময় চেয়েছেন।
এ সময় কার্যালয়ের পরিবেশ বিশৃঙ্খল ও অগোছালো দেখতে পান দুদকের কর্মকর্তারা। সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশের ব্যত্যয় ঘটিয়ে একটি কক্ষে কাঁথা-বিছানা পেতে শিশুর পরিচর্যার ব্যবস্থাও পাওয়া যায়।
দুদক আরও জানায়, স্থানীয় সূত্র ও জনশ্রুতিতে অভিযোগ পাওয়া গেছে, কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী ২০১৯ সাল থেকে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার সুযোগে তিনি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নথিপত্র পর্যালোচনা ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
অন্যদিকে, জামালপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল সরিষাবাড়ী পৌরসভায় রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযানকালে দুদকের দল পৌরসভার প্রশাসকের দপ্তর থেকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথিপত্র সংগ্রহ করে। পরে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
দুটি অভিযানের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।






