কক্সবাজার বিমানবন্দর উদ্বোধন নভেম্বরে

তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভ্যালের আয়োজন, পর্যটন খাত উন্নয়নে মহাপরিকল্পনায় ১ হাজার ৪৯৮টি আকর্ষণ

টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চলতি নভেম্বর মাসে উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নভেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভ্যাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ভ্রমণ ও পর্যটন মেলা (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভ্যাল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, দেশের পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব প্রযুক্তি পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়টি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে নিরাপদ, টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।