তাহসিফের সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন নেই, নাকে রক্ত

নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া ও পেট ফোলা থাকার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত।
টুইট ডেস্ক: তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার তথ্য সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি এবং মুখমণ্ডল গোলাকার ছিল। মুখ ও চোখ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ছিল এবং হাতের মুঠো খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। শরীরের কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা ছিল এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁদের দেখানো মতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেন। কচুরিপানার মধ্য থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরনে ছিল সাদা ট্রাউজার বা পাজামা এবং কালো জামা। হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মরদেহটি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মরদেহের বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকার তথ্যের ভিত্তিতে এককভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তাহসিফ সৌরি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। ঘটনার দিনও বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে আত্মীয়স্বজন তখনো মরদেহটি গ্রহণের দাবি জানাননি। নৌপুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।






