শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ আগেই নাকচ করেছিলেন তাহসিফ

মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো দাবি ঘিরে আলোচনা, পডকাস্টে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছিলেন সাবেক বিমান কর্মকর্তা
টুইট ডেস্ক : তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ এ-সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছিলেন এবং ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বীকার করেননি।
গত ২১ জুলাই প্রকাশিত ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের একটি পডকাস্টে নিজের চাকরি ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তাহসিফ। এ সময় তাঁকে নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। প্রতিবেদনটিকে অপপ্রচার বলে দাবি করেন সাবেক এই কর্মকর্তা।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে উপস্থাপক শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়ের ভিডিও নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চান। জবাবে তাহসিফ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওটি রিফাত আশরাফী ধারণ করেছিলেন এবং তিনি তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পেছনে ওই অভিযোগের ভূমিকা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাহসিফ বলেন, ওই সময়ের কিছু ঘটনা এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবকিছু প্রকাশ করতে না পারার সীমাবদ্ধতার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই উঠে আসে; ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেননি।
এদিকে তাহসিফের এক বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজিমাম ফেসবুকে দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ওই ব্যক্তি।
ফেসবুক পোস্টে ইনজিমাম জানান, আদমজী কলেজে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল এবং পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে একই প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন তাঁরা। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের ঘটনার পর তাহসিফকে বিভিন্নভাবে মানহানির শিকার হতে হয়েছিল। তবে এসব বক্তব্য ও সন্দেহের স্বাধীন কোনো সত্যতা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যায় না।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ বা ব্যক্তিগত সন্দেহকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।






