পাকিস্তান ও কাতার এনার্জির ১৫০ মিলিয়ন ডলারের এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প বাতিল

নীতিগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় পোর্ট কাসিম প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত, ২০ লাখ ডলার ফেরত চায় কোম্পানি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমে ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছে এনার্গাস। দীর্ঘদিনের বিলম্ব, জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তন এবং রাজস্ব ও চুক্তিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসলামাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতার এনার্জি ও পাকিস্তানের লাকি গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা থাকা যৌথ উদ্যোগটির প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এনার্গাসের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী তাব্বা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত নীতিগত ও রাজস্বসংক্রান্ত বিষয় প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দুর্বল করেছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে সরকারের তৈরি সমন্বিত জ্বালানি সমীক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে নতুন এলএনজি টার্মিনালের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের অংশ হিসেবে নতুন এলএনজি টার্মিনালের জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ বাতিল করা হয়। কোম্পানিটির মতে, এসব পরিবর্তন প্রকল্পটির বাণিজ্যিক যৌক্তিকতাকে আরও দুর্বল করেছে।
এনার্গাসের দাবি, পাইপলাইনের সক্ষমতা বরাদ্দ, গ্যাস পরিবহন চুক্তি এবং তৃতীয় পক্ষের প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ছিল। এসব জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পটি বাতিলের পাশাপাশি পোর্ট কাসিম অথরিটির কাছে জমা দেওয়া দুই মিলিয়ন ডলার কনসেশন ফি ফেরত চেয়েছে এনার্গাস। একই সঙ্গে প্রকল্প বাতিলের ঘটনায় কোম্পানির বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের দায় আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে পোর্ট কাসিম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত লেটার অব ইনটেন্টের (এলওআই) শর্তাবলি গ্রহণ না করলে তা বাতিল করা হবে এবং জমা দেওয়া দুই মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হবে।
প্রকল্প বাতিলের ঘটনা পাকিস্তানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে প্রকল্পটির আর্থিক ক্ষতি, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনায় এর প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: ডন, আরব নিউজ, প্রোপাকিস্তানি






