স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে ১৭ বছরের শাসনে: রাষ্ট্রপতি

দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা, চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ

টুইট ডেস্ক : গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থের অভাবে কেউ যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাতেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী করে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ করেছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই চলবে না, ব্যয় করা প্রতিটি অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা গেলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও ভালো সেবা পাবেন।

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা অবকাঠামো ও জনবল ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেও দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষ করে কোলন ও রেক্টাল সার্জারির মতো জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রোগীরা দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।