স্ত্রী থাকতেই শালিকাকে বিয়ে করা যাবে কি, শরিয়তে কী বলা হয়েছে

কোরআনে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে রাখার নিষেধাজ্ঞা; বিচ্ছেদ বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান!
নিজম্ব প্রতিবেদক: একজন মুসলিম পুরুষের স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁর আপন শালিকা—অর্থাৎ স্ত্রীর বোনকে—বিয়ে করা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ রাখার বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করা বৈধ হতে পারে।
কোরআনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যেসব নারীর সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ, তাঁদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা’ হারাম করা হয়েছে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষ একই সময়ে দুই বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখতে পারেন না। ফলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা বৈধ নয়। এ নিষেধাজ্ঞা স্ত্রীর জীবিত থাকার ওপর নির্ভরশীল নয়; মূল বিষয় হলো প্রথম বিবাহের সম্পর্ক বহাল থাকা।
স্ত্রীর মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের পর কী বিধান
স্ত্রীর মৃত্যু হলে তাঁর বোনকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে একই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকে না। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলে সংশ্লিষ্ট শরিয়তি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তালাকের ধরন, ইদ্দত এবং বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি।
সাধারণভাবে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ইদ্দত চলাকালে তাঁর বোনকে বিয়ে করা যাবে না। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অন্য কোনো শরিয়তসম্মত বাধা না থাকলে বিয়ে করা যেতে পারে। খুলা বা অন্য ধরনের বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।
চার মাযহাবের অবস্থান
ইসলামী ফিকহের হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি—চার মাযহাবেই একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে রাখার নিষেধাজ্ঞা স্বীকৃত। এ বিধানের ভিত্তি পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াত।
ইসলামী শরিয়তে স্ত্রী থাকা অবস্থায় আপন শালিকাকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ। তবে স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা বৈধ বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি অনুযায়ী বিয়ে করা যেতে পারে। বাস্তবে তালাক, খুলা বা ইদ্দতসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।






