সীমান্তের ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিজিবি

চোরাচালান ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য; ছয় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ চলবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) আয়োজিত ছয় সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৩৫ জন তরুণ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান, মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মনাকষা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণে মোবাইল ফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক সার্ভিসিং পদ্ধতি সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ পাবেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিজিবি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারবেন এবং নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তাঁরা চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হবেন।
তিনি জানান, সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩৫ জন যুবককে বৈদ্যুতিক ও গৃহস্থালি তার সংযোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সীমান্ত এলাকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যাশা, অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে তাঁরা নিজস্ব মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।







