আফগানদের কাছে হেরে শূন্য হাতে ফিরল বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৬০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় আফগানিস্তানের। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানরা।

টুইট প্রতিবেদক: সান্ত্বনার জয়ও পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় পরাজয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে তাওহীদ হৃদয়ের দলকে। ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪২তম ওভারে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।

ইমন-সাইফের লড়াই, বাকিরা ব্যর

বাংলাদেশের ইনিংসে একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে সামাল দিতে পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাঁরা।

ইমন ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন। অন্যদিকে সাইফ ৮২ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় যোগ করেন ৪১ রান। তাঁদের ব্যাটিংয়েই দেড় শ রান পার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

তবে এই দুই ব্যাটার ছাড়া আর কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। চারজন ব্যাটার ফিরেছেন কোনো রান না করেই।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট নেন।

তাসকিনের শুরু, শেষ পর্যন্ত আফগান আধিপত্য

১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। দলীয় ৩৯ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে দ্বিতীয় আঘাত হানেন এই পেসার।

কিন্তু এরপর আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ ৫৬ রানের জুটি গড়ে আফগানিস্তানকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। ইব্রাহিমের বিদায়ে জুটি ভাঙলেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি ফেরেনি।

মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ তুলে দেন ইব্রাহিম। মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে সেই উইকেটের পরও আফগানদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

রহমতের অর্ধশতকে ফাইনাল নিশ্চিত

চতুর্থ উইকেটে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রহমত শাহ। ৬৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা আফগান অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। শহীদি অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে।

আফগানিস্তান ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মুস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ধারাবাহিকতার অভাবে সিরিজ থেকে কোনো জয় ছাড়াই বিদায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

টুইটনিউজ২৪-এর বিশ্লেষণ

এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যর্থতা কেবল রান কম তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে না পারাও পরাজয়ের অন্যতম কারণ। ইমন ও সাইফের জুটি দলকে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ এনে দিলেও বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতা সেই প্রচেষ্টাকে ম্লান করে দেয়। অন্যদিকে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়েও রহমত শাহ ও শহীদির দায়িত্বশীল ব্যাটিং আফগানিস্তানের শক্তিমত্তা তুলে ধরেছে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের এই বিদায় আসন্ন ম্যাচগুলোতে ব্যাটিংয়ের গভীরতা, উইকেট ধরে রাখার সক্ষমতা এবং চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।