ফটোফিনিশে বিতর্ক এড়াতে বিশেষ প্রস্তুতি

সাত প্রকৌশলী, একাধিক প্রদর্শনী পর্দা ও দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ; সামার অ্যাথলেটিক্সে ১০ পদকের লক্ষ্য বাংলাদেশের।
টুইট ডেস্ক: অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। আসন্ন আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ফটোফিনিশের ফল নির্ভুলভাবে নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রকাশের জন্য সাতজন প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি দর্শক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য থাকবে একাধিক প্রদর্শনী পর্দা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। আগের আসরেও নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে নিজের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ফলাফল নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় ফেডারেশন।
দক্ষিণ এশীয় গেমসে ১০ পদকের লক্ষ্য
আসন্ন দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১০টি পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নবগঠিত অন্তর্বর্তী কমিটি।
এ লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, অ্যাথলেটিক্সের জন্য পৃথক প্রতিযোগিতার মাঠ এবং নিবিড় অনুশীলনের উপযোগী স্থায়ী আবাসিক প্রশিক্ষণশিবির প্রয়োজন।
একসময় বাংলাদেশে অ্যাথলেটিক্সের জনপ্রিয়তা ও দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে সাফল্য উল্লেখযোগ্য ছিল। সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং আর্থিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তিন দিনে ৪০ ইভেন্ট
তিন দিনব্যাপী জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল মাঠের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিক্ষেপজাতীয় ইভেন্টগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ইভেন্টের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী যথাক্রমে ছয় হাজার, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন। এ ছাড়া নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২০ হাজার টাকা।
প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ক্রীড়ার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যো
জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। এবারের আয়োজনেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় রয়েছে। তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে আয়োজন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল প্রকাশ, পুরস্কার প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অ্যাথলেটিক্সে প্রতিযোগিতার মান বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে পদকের লক্ষ্য পূরণে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ধারাবাহিক অনুশীলন, দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি।






