যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে অসিম মুনিরের সফর, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার কথা।

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি ইরান সফরে যান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইল বাগেই এর আগে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে অসিম মুনিরের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের মূল লক্ষ্য পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা থমকে থাকার মধ্যেই অসিম মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সোমবার অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যে অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান এই নৌপথ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি বড় তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রপথে পেতে রাখা মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। গত জুনে ইসলামাবাদের উদ্যোগে দুই দেশ স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সেই উদ্যোগ স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের ওই চুক্তির পর অসিম মুনিরের এটি পঞ্চম তেহরান সফর।

সাম্প্রতিক সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।