উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের কর্মসংস্থানে সরকারের পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বাজেট বাড়ানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র তৈরিতেও উদ্যোগ।

টুইট ডেস্ক: উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেটও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টিতেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানো এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬৫৯ শিক্ষার্থীর ডিগ্রি অর্জন

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথি, কূটনীতিক, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবর্তনের প্রধান অতিথি স্নাতকদের অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁদের কৌতূহলী মনোভাব ধরে রাখা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা স্নাতকদের সততা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা ধারণ করা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

ছয় বিভাগে ডিগ্রি অর্জন

সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্যদেশের মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ১৫৫ জন, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ১৪৯ জন, যন্ত্র ও উৎপাদন প্রকৌশলে ১৪৭ জন, পুরকৌশল ও পরিবেশ প্রকৌশলে ১২৬ জন, ব্যবসা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় ৫৭ জন এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিভাগে ২৫ জন ডিগ্রি লাভ করেন।

স্বর্ণপদক পেলেন সাত শিক্ষার্থী

অসাধারণ শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ‘ওআইসি স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদকে ‘আইইউটি স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়।

উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার সমন্বয়ের ওপর।