রাজশাহীতে ৬৯ সার ডিলারের নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রাধান্যের অভিযোগ

নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী কিংবা তাঁদের স্বজন, দাবি প্রতিবেদনে; বাগমারায় ১৮টি পদে নিয়োগ আটকে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে নতুন নিয়োগ পাওয়া ৬৯ জন সার ডিলারের অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অথবা তাঁদের পরিবারের সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মীও রয়েছেন। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে এসব নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কেউ তা স্বীকার করেননি।

গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি রাজশাহী জেলার ৬৯ জন নতুন সার ডিলারের তালিকা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠায়। জেলার একটি সিটি করপোরেশন, ৭২টি ইউনিয়ন ও ১৪টি পৌরসভায় ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চললেও বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ১৮টি পদের নিয়োগ এখনো আটকে রয়েছে।

তালিকা বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ডিলার নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক, কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ও জেলার তিন সংসদ সদস্যসহ পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। পরে তালিকাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন সংসদ সদস্যের দেওয়া তালিকা থেকেই নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রতিটি এলাকার জন্য তিনজনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সুপারিশ করা ব্যক্তির নাম তালিকার প্রথমে রাখা হয়েছিল বলে দাবি ওই কর্মকর্তার। আবেদনকারীদের একটি অংশ লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের দাবি জানালেও রাজনৈতিক চাপের কারণে তা করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ পাওয়া অনেকেরই সার ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চারঘাট-বাঘা, তানোর, পুঠিয়া, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষকদলের নেতাকর্মী এবং তাঁদের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের নাম এসেছে। কোথাও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার স্ত্রী বা ছেলে, কোথাও আবার দলীয় পদধারী ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গোদাগাড়ীর একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে স্থানীয় ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে জানিয়েছেন।

দলীয় সুপারিশের অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, তাঁরা কোনো তালিকা দেননি। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছে বলে তাঁর দাবি।

অন্যদিকে তালিকা নিয়ে বিরোধের কারণে বাগমারার ১৮টি পদে নিয়োগ আটকে রয়েছে। রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী দলীয় ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে কৃষি সচিব ও কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য।

নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁরা সাড়া দেননি।