বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, ১২ জনের সাজা

কোরিয়া ও অন্যান্য দেশে চাকরির প্রলোভনে ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ; সাতজনের কারাদণ্ড, পাঁচজনকে জরিমানা।

টুইট প্রতিবেদক: বিদেশে চাকরি ও কর্মভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তে বিদেশে কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টি উঠে আসে।

মিথ্যা আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা আদায়

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এসআরবি-৪-এর একটি দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে। পরে সকাল ১১টায় বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর কিছুদিন ধরে গোপনে তদন্ত চালানো হয়। এতে বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।

তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানো এবং বিদেশে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়ে ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাতজনের কারাদণ্ড

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পটুয়াখালীর সবুজ ও সিরাজগঞ্জের শামীমকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই জেলার সুজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পাবনার শাহিনকে ২১ দিন, কিশোরগঞ্জের আবুল বাসারকে ১৫ দিন এবং ভোলার হারুন ও শরীয়তপুরের সুরুজ মিয়াকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ড পাওয়া পাঁচজনের মধ্যে কিশোরগঞ্জের দুর্জয়কে ১০ হাজার টাকা, রংপুরের রেজাউল করিমকে পাঁচ হাজার টাকা, কিশোরগঞ্জের কাইয়ুমকে চার হাজার টাকা, ভোলার রিয়াজকে দুই হাজার টাকা এবং একই জেলার কামরুন নাহারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশীদের কাছে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বোয়েসেলের কার্যক্রম সম্পর্কে থাকা ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করত চক্রটি।

বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন মেয়াদের ২৪টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে বিদেশে কর্মী পাঠায় না কিংবা চাকরির ব্যবস্থা করে না।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। শুধু নিজস্ব পাসপোর্ট থাকলেই বিনা খরচে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতারক চক্র প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশগামীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিদেশে চাকরির প্রত্যাশী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি-৪। বিদেশে চাকরি, কর্মভিসা কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে যাচাই-বাছাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার এ ঘটনা চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সত্যতা যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।