ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে ৯৮ হাজার টাকা, আরও টাকা নিতে এসে আটক

দেড় মাস ধরে ছয়জনকে ঘোরানোর পর আরও চার হাজার টাকা দাবি; সন্দেহ হলে কৌশলে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন ভুক্তভোগীরা

টুইট প্রতিবেদক ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় দেড় মাস ধরে টাকা নেওয়ার পরও কার্ড করে না দিয়ে নানা অজুহাতে ঘোরানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরে আরও চার হাজার টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। এরপর বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আটক নার্গিস আক্তার (৩৬) মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। তাঁকে প্রথমে রায়বাজার তদন্তকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগীরা হলেন নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাঁদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য রাবেয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং অপর পাঁচজনের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা করে নেন। সব মিলিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

টাকা নেওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে তাঁদের ঘোরানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে নার্গিস আরও চার হাজার টাকা দাবি করলে তাঁদের সন্দেহ হয়।

ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুনের ভাষ্য, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে আরও টাকা চাওয়ায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে ডেকে এনে পুলিশে দেওয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, সোমবার তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে বাকি চার হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়। সেখানে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস প্রতারণা করছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অপর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে নতুন করে সতর্কতার বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারি কোনো কার্ড বা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করা হলে যাচাই ছাড়া অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।