বরগুনার সেরা কথামনির স্বপ্ন ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া

মানবিক বিভাগে জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে কথামনি হালদার; সাফল্য ধরে রেখে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় সে।

টুইট ডেস্ক: বরগুনায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কথামনি হালদার। ভালো ফলের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে।

মঙ্গলবার বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের স্বপ্নের কথা জানায় কথামনি। বাবা ও ছোটবোনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল সে।
কথামনি জানায়, এসএসসিতে ভালো ফলাফল তাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। এখন উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চায় সে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কথামনির পরিবারের সদস্যদেরও বেশ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাড়ি থেকে ভোরে মেয়েকে নিয়ে বরগুনার উদ্দেশে রওনা দেন তার মা খাদিজা বিনতে তাহিরা। তিন ধরনের যানবাহন পরিবর্তন করে সকাল আটটার দিকে তাঁরা অনুষ্ঠানে পৌঁছান।

মা খাদিজা বলেন, মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করতেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন।

একই অনুষ্ঠানে বামনা উপজেলার আসমাতুল নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পাওয়া আফিয়া উম্মে সালমাও অংশ নেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সংবর্ধনায় যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে সে। সেখানে সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তার আনন্দ আরও বেড়ে যায়।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সারা দেশের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বরগুনার অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাথরঘাটা উপজেলার সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল করিম বলেন, জিপিএ–৫ অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। উপকূলীয় এলাকার সন্তান হলেও মেধা ও যোগ্যতার দিক থেকে শিক্ষার্থীদের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, তবে প্রযুক্তির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানো যাবে না।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল। তরুণ শিল্পী দিপু রাহান ও তাঁর দলের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। গানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

কথামনির মতো শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যথাযথ সুযোগ, দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা পেলে এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।