এআই নিয়ে ভয় কমাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ধারণা

শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি; আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

টুইট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে উপস্থাপনের পাশাপাশি শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করা হয়েছে।

চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিটিকে নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করা। বিশেষ করে এআই মানুষের কর্মসংস্থান কমিয়ে দেবে কিংবা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে প্রযুক্তিটির উন্নত সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে এআই উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প। এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে এর বিকাশে অতিরিক্ত বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বৈঠক হয়। এতে মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অ্যানথ্রপিককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মতপার্থক্য তৈরি হয়। তবে এসব টানাপোড়েনের মধ্যেও আমোদেইকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

নতুন নিরাপত্তা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ফলে বাস্তবে এআই নিরাপত্তায় চুক্তিটি কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি সরাসরি বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এআই নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

এ উদ্যোগকে মূলত এআইয়ের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এআইকে শুধু চাকরি কেড়ে নেওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর উন্নত সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ধারণার মাধ্যমে সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।