সেচ বন্ধ, মিটার বন্ধ, তবু নাটোর পল্লী বিদ্যুতের ভুয়া বিলের দৌরাত্ম্য থামছেই না

বাগমারায় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং নিয়ে কৃষকের প্রশ্ন। মিটার বন্ধ, ব্যবহার শূন্য—তবুও কৃষকের ঘাড়ে বিলের বোঝা; মাসে গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার, কয়েকশ কৃষকের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সেচ মৌসুম শেষ। বন্ধ সেচ মিটার, জমিতেও নেই পানি তোলার কাজ। অথচ মাসের পর মাস কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। রাজশাহীর বাগমারায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও সমস্যার সমাধান না করে তাদের বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেচ মৌসুমের বাইরে মিটার বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিল আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কোন মিটার রিডিং বা হিসাবের ভিত্তিতে এসব বিল তৈরি হচ্ছে।
বাগমারার মির্জাপুর-গোয়ালকান্দি এলাকার কৃষক মো. মকসেদ আলী অভিযোগ করেছেন, কয়েক মাস ধরে তার কৃষি সেচ মিটার বন্ধ থাকলেও নিয়মিত বিল পাঠানো হচ্ছে। তার মিটার নম্বর ৩১xxx২৮ এবং গ্রাহক হিসাব নম্বর ১০১২xx ৭৫x ৫১৫০। আগস্ট ২০২৬ মাসের বিলসহ বিভিন্ন সময়ের বিল তার নামে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কার্যালয়গুলোতে টেবিলে টেবিলে ঘুরছেন শত শত কৃষক।
মকসেদ আলীর দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিল পরিশোধের চাপ তাকে আর্থিকভাবে ভোগান্তিতে ফেলছে। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে বন্ধ থাকা সময়ের বিল যাচাই করে বাতিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সেচ মৌসুম শেষ হওয়ার পরও যদি মিটার বন্ধ থাকা অবস্থায় বিল তৈরি হয়, তাহলে বিলিং প্রক্রিয়ায় মিটার রিডিং ও ব্যবহারের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বাগমারার সেচ মিটারগুলোর অফ-সিজন বিলিং সামগ্রিকভাবে যাচাই এবং প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কৃষক মো. মকসেদ আলীর অভিযোগের বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিল তৈরির কারণ, মিটার রিডিংয়ের অবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, সেচ বন্ধ, মিটার বন্ধ, বিদ্যুৎ ব্যবহার নেই—তাহলে বিল আসছে কীভাবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করে অতিরিক্ত বিল থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ।






