বান্দরবানে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অভিযানে ৮০ জন আটক

চার উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান; যাচাই শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নিরপরাধদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়ার কথা।
বান্দরবান প্রতিনিধি: কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বান্দরবানে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলা সদরসহ চার উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদরের মেম্বারপাড়া, রাজার মাঠ, আর্মিপাড়া, রেস্ট হাউস, উজানীপাড়া, ৩ নম্বর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া লামায় ১৩ জন, আলীকদমে ১৯ জন এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বান্দরবান সদরের অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার। এ সময় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা নিরপরাধ, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য, বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, মাদকসহ কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক সেমিনারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সন্তান ও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের দূরত্ব সামাজিক অপরাধ ও অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।
কিশোর গ্যাং, মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশের এই অভিযানের ফলে একদিকে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে, অন্যদিকে আটক ৮০ জনের মধ্যে কারা অপরাধে জড়িত এবং কারা নিরপরাধ—তা যাচাই-বাছাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে। ফলে আটকের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কিশোরদের পরিবার ও সামাজিক পরিবেশও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।





