রাজশাহী-ঢাকাগামী রাতের ট্রেনে ডিবির পোশাকে তল্লাশি, পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিবি বলছে, পোশাকধারী ব্যক্তি তাদের সদস্য নন; চলন্ত ট্রেনে যাত্রী তল্লাশিতে নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী একটি রাতের আন্তঃনগর ট্রেনে ডিবি পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে যাত্রীদের ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীদের পরিচয় জানতে ও বিভিন্ন প্রশ্ন করছিলেন। তবে ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ডিবির পোশাক পরা ওই ব্যক্তি তাদের সদস্য নন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনে ওই ব্যক্তি একাধিক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করছেন। কয়েকজনের শরীরও তল্লাশি করতে দেখা যায়। ডিবির পোশাক ও আচরণের কারণে যাত্রীরা তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মনে করে স্বাভাবিকভাবেই সহযোগিতা করেন।

ঘটনার পর ডিবির পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তিকে নিজেদের সদস্য নয় বলে জানানোয় তার পরিচয় ও তল্লাশির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিবির সদস্য না হলে তিনি কী পরিচয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন, কার অনুমতি বা নির্দেশে যাত্রীদের তল্লাশি করছিলেন এবং তল্লাশির উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি যে ডিবির পোশাক পরেছিলেন সেটি কোথা থেকে পেলেন। পোশাকটি আসল নাকি নকল, ওই ব্যক্তি এর আগে একই পরিচয়ে কোথাও তল্লাশি চালিয়েছেন কি না এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কারা—এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি রাখে। তল্লাশির সময় কোনো যাত্রীর কাছ থেকে অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী বা অন্য কোনো জিনিস নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একটি চলন্ত আন্তঃনগর ট্রেনে প্রকাশ্যে যাত্রীদের তল্লাশি করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের নজরে বিষয়টি পড়েছিল কি না, পড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং না পড়ে থাকলে তার কারণ কী—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

জরুরি কোনো তল্লাশির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশের সমন্বয় এবং দায়িত্বশীল উপস্থিতি থাকা প্রত্যাশিত। ফলে এমন ঘটনা কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ করা ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি একই ব্যক্তি বা কোনো দল নিয়মিত রাতের ট্রেনে যাত্রীদের পরিচয় জানতে ও ব্যাগ তল্লাশি করে—সেটিও তদন্তের বিষয়। এ ক্ষেত্রে ট্রেনের সিসিটিভি ফুটেজ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ডিবির বক্তব্য অনুযায়ী, তল্লাশি চালানো ব্যক্তি তাদের সদস্য নন। আবার সরেজমিনে তাকে ডিবির পোশাকে যাত্রী তল্লাশি করতে দেখা গেছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন—তিনি কে, ডিবির পোশাক কোথা থেকে পেলেন, কী পরিচয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন, কার নির্দেশে তল্লাশি করছিলেন এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল?

তবে তদন্তের আগে ওই ব্যক্তিকে ‘ভুয়া ডিবি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়। তার পরিচয়, পোশাক ব্যবহারের বিষয়টি এবং তল্লাশির বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই স্পষ্ট হওয়া উচিত।