ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে বিল নিয়ে তৎপরতা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর উদ্যোগ, হাউসে ৪১৭-৩ ভোটে পাস বিল
টুইট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বাড়তি ব্যয় সাধারণ গ্রাহকের ওপর পড়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নিয়ে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিদ্যুতের বাড়তি খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেট এ উদ্যোগ নিয়েছে।
‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ ইতোমধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদে ৪১৭-৩ ভোটে পাস হয়েছে। বিলটির উদ্দেশ্য হলো—বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার, তাদের জন্য নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো তৈরির অতিরিক্ত ব্যয় বহনে বিবেচিত হবে, যাতে সেই ব্যয়ের পুরোটা আবাসিক গ্রাহকদের ওপর না পড়ে।
বিলটি অবশ্য রাজ্য নিয়ন্ত্রকদের সরাসরি ডেটা সেন্টারের ওপর এসব ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে না। বরং রাজ্য পর্যায়ের নিয়ন্ত্রকদের এ ধরনের মানদণ্ড গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে। ১০০ মেগাওয়াট বা তার বেশি সর্বোচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বড় গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
বিলটির উদ্যোক্তা রিপাবলিকান সিনেটর জন হুস্টেড। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি সর্বসম্মত সম্মতিতে বিলটি দ্রুত পাসের উদ্যোগ নিলে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্টিন হাইনরিখ আপত্তি জানান। হাইনরিখের বক্তব্য, বিলটি বড় ডেটা সেন্টারগুলোর ওপর ব্যয় বহনের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা না করে শুধু রাজ্যগুলোকে তা বিবেচনার সুযোগ দিচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প জানান, বিলটি সিনেটে তোলার বিষয়ে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ ব্যয় ও ডেটা সেন্টার নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা, অবকাঠামো ব্যয় ও স্থানীয় প্রভাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।
সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিতর্ক হচ্ছে—বড় ডেটা সেন্টারগুলোকে অবকাঠামোর বাড়তি ব্যয় বহনে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা করা হবে, নাকি রাজ্য নিয়ন্ত্রকদের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। ফলে ভোটের মাধ্যমে বিলটি এগোয় কি না, তা আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রধান সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন কংগ্রেসের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (CBO)






