রাজশাহীতে হারানো ৫৬ মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা, পুলিশের প্রতি বাড়ছে আস্থা

প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো ফোন উদ্ধার, নাগরিকসেবায় পুলিশের আন্তরিকতার প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: ফোনটি হারানোর পর অনেকের কাছেই সেটি ফিরে পাওয়ার আশা ছিল ক্ষীণ। কারও ফোনে ছিল প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, কারও ব্যক্তিগত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আবার কারও কাছে ফোনটি ছিল দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। সেই হারানোর কষ্টের পর এবার ৫৬ জনের হাতে ফিরেছে তাদের প্রিয় মোবাইল ফোন।

রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হারিয়ে যাওয়া ৫৬টি মোবাইল ফোন প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালিকদের হাতে ফোনগুলো তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ। দীর্ঘদিন পর হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকের মুখেই দেখা যায় স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, রাজশাহীর আটটি থানায় বিভিন্ন সময়ে মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ৫৬ জন ব্যক্তি জিডি করেন। এসব জিডির সূত্র ধরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে ৫৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ফোনের মধ্যে ভিভো ১১টি, স্যামসাং ১০টি, শাওমি ৭টি, রিয়েলমি ৮টি, ইনফিনিক্স ৩টি, আইটেল ১টি, টেকনো ৩টি, অপো ২টি, ওয়ালটন ৪টি, নোকিয়া ২টি, জিডিএল ১টি, পোকো ২টি এবং সিম্ফোনি ২টি রয়েছে।

প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার কীভাবে সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এই উদ্যোগ তার একটি বাস্তব উদাহরণ। শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারই নয়, প্রতিটি জিডির সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ফোনগুলোর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টাও প্রশংসার দাবি রাখে।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রকৃত মালিকদের কাছে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমি মনে করি, এই সাফল্যের পরিধি আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে।’ হারানো ফোন উদ্ধারে পুলিশের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ.টি.এম. মাইনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হারানো ফোন ফিরে পাওয়া মালিকদের জন্য এটি শুধু একটি মোবাইল ফিরে পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং হারিয়ে যাওয়া একটি প্রয়োজনীয় জিনিস ফিরে পাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বস্তি, আনন্দ ও পুলিশের প্রতি নতুন করে আস্থার অনুভূতি। জেলা পুলিশের এমন প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ফোন ফিরে পাওয়া নাগরিকরা।