রাজশাহীতে রাস্তার ধুলায় ভাজা হচ্ছে চিকেন চাপ, দেখার কেউ নেই

খোলা তাওয়ায় খাবারে পড়ছে ধুলাবালি ও ময়লা, বাড়তে পারে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে রাস্তার পাশে খোলা তাওয়ায় চিকেন চাপ, নান রুটিসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যানবাহন চলাচলের কারণে উড়ে আসা ধুলাবালি ও ময়লা খাবারের ওপর পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ঢেকে রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দেখা যায় না।
খাবার খোলা অবস্থায় রাখলে ধুলাবালির পাশাপাশি বাতাসের বিভিন্ন জীবাণু, ময়লা ও অন্যান্য দূষিত কণা খাবারে মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে রান্নার পর খাবার দীর্ঘ সময় খোলা থাকলে এবং বারবার হাত বা অপরিষ্কার সরঞ্জামের সংস্পর্শে এলে দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নামি দামি রেস্টুরেন্টে রাস্তার পাশে বসানো বড় তাওয়াতে চিকেন চাপ ভাজছেন কর্মচারীরা। পাশে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় উড়ছে ধুলাবালি। সেই ধুলা খাবারের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকলেও অনেক দোকানে খাবার ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নেই। একইভাবে নান রুটিসহ অন্যান্য প্রস্তুত খাবারও খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে।
খাবার ঢেকে রাখার বিষয়ে কয়েকজন দোকান মালিক ও কর্মচারীকে প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, খাবার ঢেকে রাখলে ক্রেতারা সহজে দেখতে পারবেন না। ফলে বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে তাদের দাবি।
অথচ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ধুলাবালি, ময়লা ও জীবাণু থেকে খাবার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। বিশেষ করে রাস্তার পাশে খোলা আগুনে বা তাওয়াতে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে আশপাশের পরিবেশের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিকের দাবি, কাঁচ বা স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে রান্না ও পরিবেশনের স্থান ঘিরে রাখলে বাইরে থেকে খাবার দেখা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি ধুলাবালি ও ময়লা থেকেও খাবার অনেকটা সুরক্ষিত রাখা যাবে। এতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
তবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে এমন চিত্র দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব খাবারের দোকানে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখা যায় না।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু খাবারের মূল্য বা মেয়াদ পরীক্ষা নয়, খাবার কী পরিবেশে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে—সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে রাজশাহী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার সহকারি পরিচালক বিপুল বিশ্বাস বলেন, রাজশাহী শহরের বিভিন্ন হোটেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি ও জরিমানা করি। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্মীপুর,সাহেব বাজার এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে আমরা সতর্ক করার পরেও দু একদিন তারা সাবধান হয় তারপরে আবার একইভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে। দু-একদিনের মধ্যে আবার অভিযান পরিচালনা করব আমরা।
খেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত বা সংরক্ষিত খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা খাদ্যবাহিত অসুস্থতা হতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, পেটের অস্বস্তি ও জ্বর দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতাও হতে পারে।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হতে পারে। দূষিত খাবারের কারণে অসুস্থতার মাত্রা নির্ভর করে কী ধরনের জীবাণু বা দূষিত উপাদান খাবারে প্রবেশ করেছে এবং কতটা গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর।
তবে শুধু খাবারে ধুলা পড়লেই প্রত্যেকের অসুস্থতা হবে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। খাবারটি কতক্ষণ খোলা ছিল, কীভাবে রান্না ও সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং দূষণের মাত্রা কেমন ছিল—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়?
খাবার কেনার সময় ক্রেতাদের খেয়াল করা উচিত—রান্নার স্থান পরিষ্কার কি না, খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না এবং খাবার পরিবেশনের সময় কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছেন কি না।
রাস্তার পাশে খাবার তৈরি হলে স্বচ্ছ কাচ বা উপযুক্ত আবরণ দিয়ে রান্না ও পরিবেশনের স্থান সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে। এতে ক্রেতারা খাবার দেখতে পারবেন, আবার ধুলাবালি ও বাইরের দূষণ থেকেও খাবার তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
নগরীর খাবারের দোকানগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি তদারকি, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপদ খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোক্তাদের সচেতন হওয়া জরুরি।






