শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র অসম্ভব: রিজভী

নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর

টুইট ডেস্ক: শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্র সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস গণতন্ত্র সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক ও মানবাধিকার এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে। গণতন্ত্রের নীতি প্রচার ও সুসংহত করার লক্ষ্যেই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রিজভী। একই সঙ্গে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানান তিনি।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবাধিকার রক্ষা। গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবা ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দায়বদ্ধ থাকেন। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তির উত্থানের সুযোগ থাকে না।

দেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, গুম, হত্যাকাণ্ড ও আইনবহির্ভূত হত্যার মতো অভিযোগও উঠেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে গেছে।

রিজভী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গণতন্ত্র কোনো ধরনের বৈষম্য বাড়ায় না; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার পথ তৈরি করে।