রেলওয়ে গেটকিপার জসীমের বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ

২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ, তদন্ত ও ব্যবস্থা চেয়েছেন তোফাজ্জাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁদলাই রেলওয়ে ক্রসিংয়ের গেটকিপার জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম), রাজশাহী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর গ্রামের তোফাজ্জাল হোসেন।
অভিযোগকারী তোফাজ্জল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহারাজপুর গ্রামের এসলাম বিশ্বাসের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত জসীম উদ্দীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারায়ণপুরের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর তানোর উপজেলার বনকেশর এলাকায় বসবাস করছেন এবং গোদাগাড়ীর চাঁদলাই রেলওয়ে ক্রসিংয়ে গেটকিপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেন উল্লেখ করেন, ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে জসীম উদ্দীন তাঁর কাছ থেকে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নেন। এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে জসীম উদ্দীন ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কেশরহাট এসএমই/কৃষি শাখার ছয়টি চেক দেন। পরে চেকগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় (‘ইনসাফিশিয়েন্ট ফান্ড’) সেগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়।
তোফাজ্জাল হোসেনের দাবি, গত ২৭ আগস্ট ব্যাংক থেকে ছয়টি চেকই ‘চেক রিটার্ন মেমোরেন্ডাম’সহ ফেরত দেওয়া হয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জসীম উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তোফাজ্জালের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি সমাধানের জন্য তোফাজ্জাল হোসেনকে একাধিকবার বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি বসতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।






