স্বাধীনতার দাবিতে একজোট ওয়েলস-স্কটল্যান্ড-উত্তর আয়ারল্যান্ড

বাম থেকে স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও এসএনপি নেতা জন সুইনি; ওয়েলসের প্লাইড কামরি নেতা রুন অ্যাপ আইওরওয়ার্থ; উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও সিন ফেইনের সহ-সভাপতি মিশেল ও’নিল এবং সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। ছবি: জেন বার্লো/পিএ ওয়্যার, জোনাথন ব্র্যাডি/পিএ ওয়্যার, ব্রায়ান ললেস/পিএ ওয়্যার

প্লাইড কামরি, এসএনপি ও সিন ফেইনের নতুন চুক্তি; সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতির আহ্বান যুক্তরাজ্য সরকারকে। স্বাধীনতার দাবিতে একজোট ওয়েলস-স্কটল্যান্ড-উত্তর আয়ারল্যান্ড।

বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে একজোট হয়েছে ওয়েলসের প্লাইড কামরি, স্কটল্যান্ডের স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৩ মিনিট) কার্ডিফে তিন দলের শীর্ষ নেতারা একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে স্বাধীনতার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

চুক্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দলীয় নেতা হিসেবে অংশ নেন ওয়েলসের প্রথম মন্ত্রী ও প্লাইড কামরির নেতা রুন অ্যাপ আইওরওয়ার্থ, স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও এসএনপি নেতা জন সুইনি, উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও সিন ফেইনের সহ-সভাপতি মিশেল ও’নিল এবং সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। তারা সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নয়, নিজ নিজ দলের নেতা হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এমন তিনজন প্রথম মন্ত্রী দায়িত্বে রয়েছেন, যারা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। দলগুলোর দাবি, এটি ওয়েস্টমিনস্টারের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সংকেত।
তিন দলই নিজ নিজ জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, তিন দলের সাংবিধানিক অবস্থান এক নয়। ফলে প্রতিটি জাতি নিজেদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজস্ব পথ ও সময়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

চুক্তিতে স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। নেতারা ওয়েস্টমিনস্টারের প্রচলিত অর্থনৈতিক মডেলের সমালোচনা করে সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

রুন অ্যাপ আইওরওয়ার্থ মে মাসের সেনেড নির্বাচনকে ওয়েলসের রাজনীতিতে ‘মোড় ঘোরানোর’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, দ্বীপপুঞ্জজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে এবং ওয়েস্টমিনস্টারের পুরোনো মডেল আর কার্যকর থাকছে না।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার এই স্বাধীনতার উদ্যোগের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের চার জাতির মধ্যে পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইউনিয়নের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। সরকারের অগ্রাধিকার পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—নতুন সাংবিধানিক বিতর্ক বা আরও গণভোট নয়।

একই সময়ে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর নেতারা ক্ষমতায় থাকায় নতুন এই চুক্তিকে যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে চুক্তিটি নিজে কোনো স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়া শুরু করে না; এর বাস্তব রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণের সমর্থন, ভবিষ্যৎ নির্বাচন এবং ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের অবস্থানের ওপর।

সূত্র: Nation.Cymru/সংবাদ সংস্থা