৮০ লাখ টাকার স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর কনস্টেবল জাকির হোসেন ও ব্যবসায়ী নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের সাড়ে ২০ ভরি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম। মামলায় কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কনস্টেবল জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করবেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে গলিত অবস্থায় ৪০ ভরি স্বর্ণ পাঠানো হয়। ওই স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান ব্যবসায়ী নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে তিনি স্বর্ণের চালানটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বর্ণ হস্তান্তরের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজন সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ পরিচয়ে তাঁরা স্বর্ণগুলো নিয়ে চলে যান।
কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। ঘটনার পর তিনি এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে কয়েক দিন আগে কর্মস্থলে যোগ দিলে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পরে মামলা হলে পুলিশ লাইন্স থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী তাঁর বাড়িতে থাকা প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, বাকি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের চালানটির বিষয়ে জাকিরকে তিনি জানিয়েছিলেন। পরে জাকির অভিযানের কথা বলে স্বর্ণ নিয়ে যান এবং তারা স্বর্ণ ভাগাভাগি করে নেন।
তবে কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেননি। তাঁর কাছে থাকা বলে দাবি করা বাকি প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে তাঁর ব্যবহৃত অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে কালীনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া ঘটনার আগে ও ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়নের সঙ্গে জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির তাঁর ব্যবহৃত নম্বর থেকে নয়নের নম্বরে ১০ বার কথা বলেন। ৭ আগস্ট নয়নের সঙ্গে ২৫ বার এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সাতবার কথা হয়। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট নয়নের সঙ্গে ১০ বার এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ১১ বার ফোনে যোগাযোগ হয়। তবে ঘটনার পরদিন তাঁদের মধ্যে আর কোনো ফোনালাপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করলে জাকির ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের মুখপাত্র এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় থাকায় ফিরে এলে এ বিষয়ে আদেশে স্বাক্ষর করবেন।
তিনি আরও জানান, মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হলেও কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে থাকা বলে দাবি করা স্বর্ণ এখনো পাওয়া যায়নি। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।






