দুর্গাপুরে বাড়িতে মিলল ৬৭০ বস্তা সার

 

ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ- ইউএনওর অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়ইল গ্রামের সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সার ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ করছিলেন। পরে কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে এসব সার বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা প্রয়োজনের সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, মজুদ করা এসব সার পরে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করা হতো।

‎স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাইদুর রহমানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুদের বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় ছিল। কৃষকরা সরকারি মূল্যে সার না পেলেও তার বাড়িতে সার মজুদের খবর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলে অভিযান চালানো হয়।

‎অভিযানের বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। সারগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে মজুদ বা বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎এদিকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার মজুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যেন কোনোভাবেই কালোবাজারি বা মজুদদারদের হাতে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।

‎প্রশাসনের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, কৃষকের সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম ও কালোবাজারি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।