রাশিয়ার ২০২৬ শস্য উৎপাদনে রেকর্ড, বাংলাদেশেও চাই উৎপাদনভিত্তিক মডেল

১১ কোটি টনের বেশি শস্য ও ৮ কোটি ৩৫ লাখ টন গম সংগ্রহ; অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রপ্তানির প্রস্তুতি—খাদ্যনিরাপত্তায় বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে অনুসরণীয় মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালে শস্য উৎপাদনে বড় সাফল্য দেখিয়েছে রাশিয়া। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত দেশটি ১১ কোটি টনের বেশি শস্য সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে গমই রয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ টন। দেশটির কৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুত জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার শস্য সংগ্রহ বেড়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টন।

রুশ কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ শস্য ও ডালজাতীয় ফসলের জমিতে মাড়াই শেষ হয়েছে। সব অঞ্চলে চলছে সংগ্রহ কার্যক্রম। উৎপাদন পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় ভালো হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োজনীয় গম ও অন্যান্য শস্যের সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

শুধু শস্য নয়, তেলবীজের সংগ্রহও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ৩৩ লাখ টন তেলবীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে চিনি-বিট, আলু ও খোলা জমির সবজি সংগ্রহ।

কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে জ্বালানি সরবরাহও নিশ্চিত করছে রুশ সরকার। কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।

রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শস্য উৎপাদক এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। দেশটির উৎপাদনের বড় অংশ আসে ইউরোপীয় রাশিয়া, উত্তর ককেশাস, দক্ষিণাঞ্চল, সাইবেরিয়া ও উরাল অঞ্চল থেকে।

রাশিয়ার কৃষিনীতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো—প্রথমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিশ্চিত করা, এরপর উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানি করা। অর্থাৎ খাদ্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে দেশটি।

এই মডেল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জনসংখ্যার তুলনায় সীমিত কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ, সংরক্ষণ ও কৃষকদের যথাযথ প্রণোদনার মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ফসল কাটার পর অপচয় কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, আলু ও সবজির মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।

রাশিয়ার মতো বাংলাদেশেও লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রথমে দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ, এরপর উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য রপ্তানি। এতে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কৃষকের আয় ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। তাই শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হতে পারে।