নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

উদ্ধার তৎপরতায় বাধা পাহাড়ি ভূখণ্ড ও বৈরী আবহাওয়া; জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা বহু মানুষ

টুইট ডেস্ক: নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৯০৩ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই অঞ্চলে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৯০৩ জন নিহত এবং ৪ হাজার ২৪৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও বিপুল পরিমাণ পাথর-মাটি নদীতে নেমে আসার পর ভয়াবহ এই বন্যার সূত্রপাত হয়। এর ফলে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ।

দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে রাসুয়া জেলায়। বহু বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নেপালের বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার করা হচ্ছে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। তবে ভারী বৃষ্টি, কুয়াশা, কাদামাটি ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধসে পড়া স্থাপনা ও বিপুল পরিমাণ পাথর-কাদার কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কয়েকটি স্থাপনায়। নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজদের তালিকায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে নতুন করে আরও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পাহাড়ি এলাকায় অস্থিতিশীল হ্রদ, ভূমিধস ও নদীর পানির প্রবাহ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। চীন ও নেপাল উভয় পক্ষই উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।