ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন, বিএনপির বার্তা কী

গুরুত্বপূর্ণ আসনে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণে কৌশলী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
টুইট ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।
সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার পাশের আসনটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিনকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এর মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।
এরই মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা নিয়োগের এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর।
নতুন আসনবিন্যাসে সালাহউদ্দিনের পরের আসনে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপরের আসনে বসেছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আগের বিন্যাসে সালাহউদ্দিনের আসনে এখন বসছেন খন্দকার মোশাররফ। এ ছাড়া ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবেও বিভিন্ন সময় তার নাম আলোচনায় এসেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার পাশের গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে বসানোকে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক ও সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।
সংসদের উপনেতা পদটি এখনো শূন্য রয়েছে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ হলেও এই পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানো কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি তাকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত—তা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: যুগান্তর






