৪৭ বছর পর সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফেরার পথে বড় বাধা দূর; সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলেছে সিরিয়া

টুইট ডেস্ক: দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় মদদদাতা’ দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকার উদ্যোগ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, এই তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ পড়ায় দেশটির বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃসম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে থাকা একটি বড় বাধা দূর হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ফেরার সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একসময় আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠনের নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের পর তাঁর নেতৃত্বাধীন ইসলামি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামকেও মার্কিন বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হায়াত তাহরির আল-শাম আগে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। ২০১৬ সালে আল-শারা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগে সংগঠনটি সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

মার্কো রুবিও বলেন, জুলাইয়ে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশটির সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি। তিনি এটিকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একঘরে হয়ে থাকার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এবং স্বচ্ছতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে নতুন পরিবেশ তৈরিতে সিরিয়া কাজ চালিয়ে যাবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, তালিকা থেকে বাদ পড়লেও সিরিয়ার সামনে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। দেশটিতে এখনও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক এবং প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও তুরস্ককে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবও সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় মদদদাতা’ তালিকায় ছিল সিরিয়া। দেশটির নাম বাদ পড়ার পর তালিকায় এখন রয়েছে মাত্র তিনটি দেশ-কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ইরান।

এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি ও বিক্রয় এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপরও বিধিনিষেধ থাকে। ফলে সিরিয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়াকে দেশটির আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।