পুলিশকে চাঙ্গা করতে ডিআইজি আশিক সাঈদের মোটিভেশনাল উদ্যোগ

কঠিন সময় পেরিয়ে পুলিশকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি। মনোবল শক্ত করা, আত্মবিশ্বাস ফেরানো ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ে উৎসাহ দিতে ধারাবাহিক মোটিভেশনাল উদ্যোগ।

ব‌দিউল আলম লিংকন: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ৫ আগস্টের পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে পুলিশ সদস্যদের মনোবল পুনর্গঠন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ।

পরিদর্শন, কল্যাণ সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন না; বরং পুলিশ সদস্যদের কথা শুনছেন, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে চাইছেন এবং কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালনের আত্মবিশ্বাস জোগাতে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। পুলিশের মনোবল শক্ত করা ও সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক কর্মস্পৃহা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা সফরের সময় ডিআইজি পুলিশ সদস্যদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন—পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের নিরাপত্তা, আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতীতের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জে সাম্প্রতিক বার্ষিক পরিদর্শন ও বিশেষ কল্যাণ সভাতেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন ডিআইজি। উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাসের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সঙ্গে আন্তরিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থাৎ পুলিশকে একদিকে যেমন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় দৃঢ় থাকতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে—এমন বার্তাই দিচ্ছেন তিনি।

ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদানও তাঁর উদ্যোগের একটি ইতিবাচক দিক। এতে দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য সদস্যদের মধ্যেও ভালো কাজের আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মস্পৃহা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বাহিনীর কার্যকারিতা অনেকাংশেই তার সদস্যদের মনোবল, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং কাজের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে।

সেই জায়গা থেকে মাঠপর্যায়ে গিয়ে সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, সমস্যা শোনা, ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া একজন রেঞ্জ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার ইতিবাচক নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীকে নতুন বাস্তবতায় জনগণের আস্থা অর্জন, পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মনোবল পুনর্গঠন ও সদস্যদের ইতিবাচকভাবে কাজে ফেরাতে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদের ধারাবাহিক পরিদর্শন, কল্যাণ সভা, মতবিনিময় এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রয়োজনের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের কাছে তাঁর বার্তা—কঠিন সময় পেরিয়ে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মনোবল শক্ত করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের এই প্রচেষ্টা কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকলে রাজশাহী রেঞ্জে পুলিশি সেবার মান আরও উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।